আমি মানুষ হতে চেয়েছি কিন্তু আমাকে মেয়ে মানুষ বানানো হয়েছে !

।। হৃদি রুবি ।।

একজন মায়ের কোল জুড়ে যখন সন্তান আসে তখন মা থাকেন মহাখুশি।

যেদিন থেকে মেয়েটি সবার সামনে জামা খুলতে পারেনা সেদিন থেকে বুঝতে পারে তার একটা শরীর আছে এবং এটা কে ঢেকে রাখতে হবে। তার সমবয়সী ছেলেটা খালি গায়ে ঘুরতে পারলেও সে পারবে না। কেন পারবে না সেই প্রশ্ন করলে তাকে বলা হয় সব কিছু জানতে হয় না, সময় হলে নিজেই বুঝবে। হাজারো প্রশ্ন মনের কোনে উকিঁ দিলেও চুপ থাকে, কবর দিয়ে দেয় সে সব প্রশ্নের। আর সেই থেকেই যেন প্রশ্ন করিলে উত্তর মিলিবে না এমন একটি মনোভাব ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে স্থায়ী করে ফেলে।

পরবর্তী জীবনে বেশির ভাগ মেয়েই এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে না, কিংবা এড়িয়ে যায়। কারণ, তারা বুঝে যায় এই প্রশ্ন করলে সমাজ মন্দ বলে। তারাও তাদের কন্যা সন্তানটিকে একই কথা শেখায় এই ভেবে, যেন সমাজ তার কন্যাটি কে মন্দ না বলে।

মেয়েরা প্রথম যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকে নিকট কোন আত্মীয় থেকেই। মেয়েটা যত বড় হতে থাকে তার জীবনে নোংরা অভিজ্ঞতা তত বাড়ে। একটা মেয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ , যে কোন না কোন সময়ে তার শরীরে ঘিনঘিনে অনুভূতি টের পায়নি। প্রায়ই দেখি ছেলেরা লিখে , আপুরা শোনেন, পর্দানশীল হোন, নিজেকে ঢেকে রাখুন, আপনাদের কারনে ছেলেরা নস্ট হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আবার এই যে বাজারে যত ধর্ষন হচ্ছে, পত্রিকা ব্যবসায়ীরা মেয়েটির ছবি নিয়ে মেয়েটির চেীদ্দগোষ্ঠীর ঠিকানা নিয়ে, মেয়েটি কোন পথে স্কুলে যেত, কোন গাড়িতে যেত, গাড়িতে যাবার পথে ড্রাইভারের সাথে গল্প করত কিনা, বাসার সামনের চায়ের দোকানে যেত কিনা, ফ্লেক্সি কোথায় করত, প্যান্ট পড়ত কিনা, ব্রা পড়ত কিনা, জামার কাপড়টি পাতলা নাকি মোটা এসব নিয়ে নানান কথা নানান বাক শো (টকশো)।
আমি মনে করি, এখানে সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতাই কেবল দায়ী নহে। নারীই নারীর প্রধান শত্রু। আপনি হয়ত ভাবতে পারেন কীভাবে? হ্যা, সেই ব্যাখ্যাতে গেলে দেখবেন, একজন মা’ই তার মেয়েকে আলাদা মনোভাবের তৈরি করার জন্য প্রথমত দায়ী। সেই আট বছর থেকেই শুরু করে দেয় একজন মা। তুমি মেয়ে তুমি এটি করতে পার না, সেটি করতে পারনা, এখানে কথা বলনা, ওখানে কথা বলনা, ঐভাবে চলো না, এই জামা পরা যাবে না, এখন বাইরে যাওয়া যাবে না, তোমার আবার ছেলে বন্ধু কি? একজন মা’ই তার মেয়েকে একজন মেয়ে মানুষ রূপে তৈরি করে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মা যদি তাকে মানুষ ভাবতে দিত তবে মেয়েটি মেয়ে মানুষ না হয়ে মানুষ হতো। আর মানুষ হলে সে নিজের, পরিবারের, সমাজের এবং সর্বোপরি দেশের হতো। আর একজন মেয়ে হলে সে তো হয় শুধু স্বামীর আর বাচ্চা পয়দার মেশিন।

যে কোন মেয়ের সাফল্যের গল্পটা পড়ে দেখেন , মেয়েটির পাশে তার পরিবার ছিল, তাকে মেয়ে মানুষ নয় বরং মানুষ হবার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। তাই সে জীবনে অনেক দুর এগিয়েছে। আর দেরি নয়—এখন ঠিক এই মুহূর্ত থেকে আপনার কন্যা সন্তানটিকে মেয়ে রূপে নয়, তাকে মানুষ ভাবা শুরু করুন। আজ আপনার ঘর থেকে শুরুটা হলে এক এক করে সব ঘরে ছড়িয়ে পড়বে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

One comment

  1. ধন্যবাদ লেখাটি শেয়ার করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *