কলারোয়ায় অসহায় তাসলিমা বেগম দর্জির কাজ করে এখন স্বাবলম্বি

বরগুনা টুডে ডেস্কঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অসহায় তাসলিমা বেগমের করুন কাহিনী। তাসলিমার পিতার পরিবার দিন মুজর হওয়ার কারনে মেয়ের খাবার জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছিল। কি আর করার সাইফুল ইসলাম নামের এক ছেলে দেখে তার পিতা বিয়ে দিয়ে দেন তাসলিমাকে। ছেলেটির বাড়ী কলারোয়া পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা গ্রামে। বিয়ের পরে তাসলিমা বেগম মনে করেছিলেন যে স্বামীর ঘরে এসে তিন বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পারবেন । কিন্তু তা আর নয়। স্বামীর সংসারে এসে এক বেলা খাওয়া। তাও আধা পেটে। এনিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়াও হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার স্বামী সাইফুল ইসলাম কাজের সন্ধানে অন্যের দোকানে দর্জির কাজ শুরু করেন। আর স্ত্রী তাসলিমা বেগম সংসারের ঘানি টানতে বের হয়ে পড়েন একটি কাজের সন্ধানে।

অবশেষে বিভিন্ন স্থানে ছুটা ছুটি ও ঘোরা ঘুরির পরে ঠাই হয় মুসলিম এইড নামে একটি সংস্থায়। এই সংস্থার ম্যানেজার সু-পরামশ্য দিয়ে তাসলিমা বেগমকে নিজের পায়ে দাড়ানোর ব্যবস্থা করে দেন। তিনি মুসলিম এইড বাংলাদেশ ২০০৭ সালে প্রলয়ংকারী ঘুণিঝড় বিধ্বস্ত (সিডর) এলাকায় পূর্ণবাসন কার্যক্রমের ২০০৯ সালের ২২ আগষ্টে কলারোয়া পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা মাঠপাড়া সমিতির সদস্য করে নেন। এই সমিতির সদস্য হওয়ার পরে তাসলিমা বেগমকে প্রথমে ২০হাজার টাকা ঋণ দেন সংস্থার পক্ষ থেকে। এই টাকা নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে দর্জির কাজ শুরু করেন। তাদের ব্যবহার ও কাজের গতি ভাল দেখে মুসলিম এইড ১০ কিস্তিতে ২লাখ ৯৫ হাজার টাকার ঋণ প্রদান করেন। চলতি বছরের ৩জুন রোববার আবারও তাসলিমা বেগমকে মুসলিম এইড এর পক্ষ থেকে ৩০হাজার টাকার ঋণ প্রদান করা হয়। এবিষয়ে তাসলিমা খাতুন জানান- তার স্বামী সাইফুল ইসলাম অন্যের দোকানে দর্জির কাজ করতেন।

স্বল্প আয়ে সংসার পরিচালনা করা তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। টাকার অভাবে নিজেও কিছু করতে পারছিলেন না। কোন আত্বীয় স্বজনেরাও কোন সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। স্বামী-স্ত্রী মিলে যখন স্বচ্ছলতার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করছিলেন ঠিক এমনি সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন আইডিবি’র অর্থায়নে পরিচালিত মুসলিম এইড বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থা। তিনি ও তার পরিবার এই সংস্থার কাছে ঋণী। তিনি আরো জানান- তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রতিদিন দর্জির কাজ করে ৮শ’ টাকা করে আয় করছেন। বর্তমানে তাসলিমা বেগম স্বামী সন্তান ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ী নিয়ে সুখী জীবণ যাপন করছেন। তার মেয়ে এখন ২য় শ্রেনীতে পড়ছেন । তাসলিমা বেগম চান-অসহায় মহিলারা তার মতো মুসলিম এইড এর সদস্য হয়ে ঋণ নিয়ে যে কোন ব্যবসা শুরু করে নিজের পায়ে দাড়ান। অন্যের বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাড়ান। তার মতো স্বাবলম্বী হন। সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *