পাঠাগারের ডায়েরী – ২

আতিক রহমান

 

গত তিনমাসের রুটিনে পাবলিক লাইব্রেরীতে সময় কাটানো, আমার সবচেয়ে প্রিয়মুহুর্তের স্মৃতি।

নিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হোক বা অখন্ড অবসরকে উপভোগ করা হোক, পাবলিক লাইব্রেরী মানেই নিরিবিলি একটা পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন একটা পরিবেশ, প্রশান্তির একটি পরিবেশ।

কিন্তু প্রতিদিন এখানে একরকম পরিবেশ বিরাজমান নয়। কখনো কখনো লোকজন বেশি থাকে, হইচই থাকে। কখনো কখনো অডিটোরিয়ামে প্রোগাম থাকে। তবে অধ্যয়নের জন্য আমরা চাই নিরবিচ্ছিন্নতা।

সবচেয়ে হতাশাজনক যে পরিস্থিতিটা হয়, তা হলো লাইব্রেরীর পিছন দিকে ফাকা জায়গাতে ইউনিফর্ম পড়া স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীদের আড্ডা।

একদিনের ঘটনা বলি।আমি বেলা সাড়ে বারোটার দিকে সিড়ি দিয়ে উঠছিলাম। কয়েকটা মেয়ে তখন নামছিল, পিছনেকয়েকটা ছেলে।আমি যখন লাইব্রেরীর পাঠ কক্ষতে প্রবেশ করব, তখন খেয়াল করলাম তারা মূল গেট দিয়ে প্রস্থান করার কথা, কিন্তু তারা কেউ লাইব্রেরী ফটকে নাই।
তাহলে নিশ্চিত পিছনের দিক গেছে ভেবে অপরদিকে গেটে চোখ রাখলাম। যা দেখলাম, একজন নিয়মিত পাঠক হিসাবেবিষয়টা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।একটা ছেলের হাতে সিগারেট জ্বলছে, অন্য দু তিনজন অপেক্ষা করছে, সেটা পাবার জন্য। তারা লাইব্রেরী ভবনের আড়ালে বসে টানছিল বলে, সামনে পিছনে খেয়াল রাখছে।কিন্তু উপরের দিকে স্বচ্ছ কাঁচে তাদের কার্যকলাপ স্পস্ট হয়ে যায়, ততটুকু তারা ভেবে দেখে নি।তারা সবাই স্কুল ইউনিফর্ম পড়া। সাড়ে বারোটায় যেসব স্কুল ছুটি হয়, তারা ছিল সেরকম কোন স্কুলের।

পাবলিক লাইব্রেরীতে বই পড়তে আসবে সবাই, পেপার পড়তে আসবে, জ্ঞান আহরণ করতে আসবে।লাইব্রেরীর পক্ষ থেকে এরকম আহবান প্রতিটি স্কুলে করা হয়েছে।স্যারেরা বলার পর ঠিকই এখানে এসেছে স্টুডেন্ট।তবে সবাই পড়তে বসে নি। খুব অল্প সংখ্যক আড়াল খুজেছে।আমরা এই অল্প আড়ালপ্রেমীদের জন্য পরিবেশটা নষ্ট হতে দেব না।

এরকম ঘটনা হয়তো নিত্যদিনের। কারো চোখে পড়ে, কারো পড়ে না। কেউ মুখ খোলে, কেউ খোলে না।তবে লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ চাইলে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে এরকম আড্ডা বন্ধ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *