শিল্পপতি আলহাজ্ব এমএ ওয়াহেদ
সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

বরগুনাটুডে ডেস্কঃ

সততা, ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোম থাকলে সবকিছুই করা সম্ভব। তার জ্বলন্ত প্রমাণ ও দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা শিল্পপতি আলহাজ্ব এমএ ওয়াহেদ।

১৯৬৬ সালের ১২ এপ্রিল ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮২ সালে আঙ্গারগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৫ সালে ভালুকা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৮৭ সালে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৮৮ সালে চলে যান অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের পাপুয়া নিউগিনিতে। ২০১৩ সালে পাপুয়া নিউগিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে পাপুয়া নিউগিনিতে ৫ বছর এডুকেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিজ উদ্যোগে ১৯৯৪ সালে পাপুয়া নিউগিনিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। স্বল্প সময়ে ব্যবসায় ব্যাপক সফলতা অর্জন করে ওই দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠিত হন। সফলতার পর তিনি ওই দেশে গ্রুপ অব দেশবেশ লিমিটেড গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। রিটেইলার, হোলসেলার ও ইম্পোর্টার হিসেবে গড়ে তুলেন নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মসবির গর্ডনসে দেশবেশ লিমিটেড গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গর্ডনস সেন্টাল মার্কেট, গর্ডনস সাব স্টেশন, গর্ডনস হোলসেল, গর্ডনস ফাস্টফুড, টোকাবার সুপার মার্কেট, কনেডোবা সুপার মার্কেট, হোলোলা লজিস্টিক ইয়ার্ড, গর্ডনস কনটেইনার ইয়ার্ড, গেরেহার ২টি আবাসিক প্রপার্টিজ, বোরোকো সেন্টাল মার্কেটসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান করে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন শিল্পপতি ওয়াহেদ। বাংলাদেশে ঢাকার মোহাম্মদপুর, ময়মনসিংহ শহর ও ভালুকায় উপজেলা সদরে রয়েছে তার নির্মিত বহুতলবিশিষ্ট ওয়াহিদ টাওয়ার। দেশে-বিদেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন ৩ শতাধিক কর্মকর্তা ও সহস্রাধিক শ্রমিক।

‘মানুষ মানুষের জন্য’—এ কথারও প্রমাণ দিতে চান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা ও শিল্পপতি আলহাজ্ব এমএ ওয়াহেদ। হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী, শিক্ষানুরাগী এ মানুষটি নিজ উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি চালু, বহু হতদরিদ্রদের বাড়িঘর নির্মাণ, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির এককভাবে অর্থায়নে নির্মাণ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। আঙ্গারগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুজ্জামান লস্কর জানান, ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তার বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি, জমিসহ তিন তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন ও ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আঙ্গারগাড়া শাহী জামে করে দিয়েছেন আলহাজ্ব এমএ ওয়াহেদ। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েই তিনি আঙ্গারগাড়া থেকে ডাকাতিয়া রাস্তা, দৌলা বাজার থেকে বালিগাড়া পর্যন্ত রাস্তা তৈরিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আর্থিক সহযোগিতা করে সাধারণ মানুষের মনের কোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।

এছাড়া তিনি ওয়াহিদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ১২০টি হতদরিদ্রদের বাড়িঘর, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ, মসজিদ-মন্দিরে প্রায় ১০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করেছেন। অর্ধশত লোককে নিজের অর্থে হজ্ব করিয়ে তিনি ওই পরিবারের সদস্যদের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। তিনি আঙ্গারগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছাড়াও পাপুয়া নিউগিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই তরুণ শিল্পপতি। ব্যক্তিগত জীবনে ২ মেয়ে, ১ ছেলে ও স্ত্রী রোজিনা ওয়াহেদকে তিনি সুখে আছেন বলে তিনি জানান। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আলহাজ্ব এম এ ওয়াহেদ জানান, সততা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যমই তাকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *