কাজী সালাউদ্দিনের চোখ এখন থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায়

0
310

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচের আগে কাতার ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে ঘানা, কোরিয়া আর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ প্রস্তুতি সেরেছে নেপালের বিপক্ষে দুটি আর কাতারের ক্লাব দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে। প্রস্তুতির এই ব্যবধানটা পরিস্কার বোঝা গেছে শুক্রবার রাতে দোহায়। বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

আগামী মার্চ ও জুনে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ তিন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ভারত এবং ওমান। এই তিন ম্যাচের আগে জামাল ভূঁইয়াদের প্রস্তুত করতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ফ্রেন্ডলি খেলার পরিকল্পনা করছে বাফুফে।

সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘এখন আমরা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চাই থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে। তাহলেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি তিন ম্যাচের জন্য দল আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবো।’

শুক্রবার রাতে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। করোনামুক্ত হয়ে তিনি শনিবার প্রথম এসেছিলেন মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনে।

ম্যাচটি দেখেনি উল্লেখ করে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘সত্যি কথা কি, আমি ম্যাচটি দেখিনি। আমি ১৫ মিনিট পরপর খোঁজ নিয়েছি। কারণ, বাংলাদেশ খেললে আমি নিতে (চাপ নিতে) পরি না। তাছাড়া আমার শরীরটাও ভালো ছিল না। ম্যাচ নিয়ে আমার মূল্যায়ন সিম্পল। আমরা একমাস আগে ট্রেনিং ও খেলা শুরু করেছি। আমরা সবাই জানি, কাতার এখন এশিয়ার এক নম্বর দল। সর্বশেষ আড়াই বছরে জাতীয় দলের পেছনে কাতার ব্যয় করেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার। তার মানে কত হাজার কোটি টাকা! আমরা এক মাস আগে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে কাতার গিয়েছি। ওরা (কাতার) খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া, ঘানা ও কোস্টারিকার বিরুদ্ধে। আমাদের গোল আরো কম হলে ভালো হতো।’

মার্চ ও জুনের বাকি তিন ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি বলেছেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর নিয়ে বসেছিলাম আমাদের পরিকল্পনাগুলো তৈরি করতে। আমাদের যে তিনটি খেলা আছে তার প্রত্যেকটির আগে চার সপ্তাহের ট্রেনিং সেশন চাই। দুই সপ্তাহ ফিজিক্যাল এবং দুই সপ্তাহ ম্যাচ। আমি ম্যাচ খেলবো থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। আমাদের চেয়ে ভালো দলের বিপক্ষে। বাকি তিনটি ম্যাচ খেলার জন্য আমার ৬ কোটি টাকা লাগবে। এই টাকা আমাকে জোগাড় করতে হবে খুব দ্রুত। এই টাকা সংগ্রহ করে প্রস্তুতি নিতে পারলে আমরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে রেজাল্ট আদায় করতে পারবো।’

বাংলাদেশ ফুটবলের বড় সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব উল্লেখ করে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা যখন অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলাম, তখন থেকে যদি ট্রেনিং অব্যাহত রাখতে পারতাম তাহলে এ অবস্থা হতো না। শুক্রবার প্রথমার্ধে ২ গোল হয়েছিল, ওই ২ গোলই থাকতো। ধারাবাহিতকাই তো নেই। নেপালকে আনতে গিয়ে আমি বোর্ডের বাধার মুখে পড়েছিলাম। কারণ, টাকা পাবো কই। আজকে আমি ওয়াদা করলাম, যেভাবেই হোক এ ধারাবাহিকতাটা রাখবো। যদি রাখতে না পারি তাহলে আমি গোটা নির্বাহী কমিটিকে বলবো ‘তোমরা পদত্যাগ করো। সেটা আমিসহ। আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই হবে। সেটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় করুক, যেখান থেকেই হোক। সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হবে। ছেলেদের দোষ দিলে হবে না। ওরা ১৫-২০ দিনে যা খেলেছে, ভালোই খেলেছে। যদিও এই খেলা আপনি-আমি কেউ খুশি না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here