আমতলীতে নৌকা ডুবাতে মরিয়া যুবলীগ!

0
18

আমতলীতে নৌকা ডুবাতে মরিয়া যুবলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২১ জুন বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের অভিযোগ, আমতলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সম্পাদকসহ একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে নৌকার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন। এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য হুমকি ধামকিও দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দাবি যুবলীগ নেতৃবৃন্ধের নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি জেলা যুবলীগ নেতৃবৃন্ধকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে উপজেলা যুবলীগের একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রকাশ্য জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন অরুচিকর মন্তব্য করছেন উপজেলা যুবলীগের নৌকা বিরোধী নেতারা। যে কোন মূল্যেই নৌকাকে পরাজিত করতে বদ্ধ পরিকর তারা। নৌকা বিরোধী যুবলীগ নেতারা হলেন- আমতলী উপজেলার আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান, সাধারন সম্পাদক জাহিদ দেওয়ান, পৌর যুবলীগ সভাপতি অ্যাড. আরিফ, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কে এম তানজিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মিরাজ হোসেন, হলুদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো: কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো: নান্নু মাতুব্বর, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কাওসার আহমেদ পপিন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল তালুকদার ও আমতলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শরীফ। এরা প্রত্যেকেই সরাসরি নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন।

চাওড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাদল খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিদান হিসেবে আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরই অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে একাংশের নেতারা আজ কালো টাকার কাছে বিক্রি হয়ে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। এর চেয়ে দু:খের এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। গত ৫টি বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় আমি ইউনিয়ন বাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছি। আমি আশাবাদী এবারের নির্বাচনে তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করবেন।

হলদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই আমতলী থেকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সেই নির্বাচিত আসনের হলদিয়া ইউনিয়নে আমি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি। দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্ধ এমনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্ধসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে নৌকার হয়ে কাজ করছেন। সেখানে উপজেলা যুবলীগের কিছু অসাধু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তৃণমূল নেতৃবৃন্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চাপ প্রয়োগ করছেন।

আমতলী সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গাজী মো: হান্নান বলেন, দল মনোনীত নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দলীয় পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে আমতলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম ওসমানী হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দলীয় ও সাংগঠিনক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সভাপতি এবং সম্পাদকের নেতৃত্বে উপজেলা যুবলীগের একাংশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোনীত নৌকা প্রার্থীর বিরোধিতা করছেন। এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে নৌকা বিরোধী যুবলীগ নেতৃবৃন্ধের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর অনুরোধ করছি। আমরা নৌকা পাগল আমতলীবাসী প্রত্যাশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত আসনে নৌকার মান সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্ধ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে যুগপোযোগী করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন গ্রাম হবে শহর। সেই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখতে চেয়েছেন। আমতলী উপজেলা যুবলীগের একাংশ নৌকার বিপক্ষের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করায় আমাদের নৌকার বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা যুবলীগের একাংশের নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জেলার নেতৃবৃন্ধকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here